রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার নিজ দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কক্ষ সিলগালা করে দফতর ছেড়েছেন। তার দায়িত্ব থাকাকালে দেওয়ালে লাগানো ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ছবিটি অক্ষত রেখেই তিনি কক্ষটি থেকে বিদায় নেন।
জানা গেছে, রাকসুর কোষাধ্যক্ষের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে তিনি দফতর ছাড়েন। এদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে জানান।
ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “প্রিয় রাবিয়ানরা, আপনারা আমার মতো নগন্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই সম্মান দিয়েছিলেন। আমি আপনাদের জন্য নিজের সামর্থ্য,সময়,শ্রম দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য আপনাদের নিকট আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমাকে আপনারা একটা নতুন জীবন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত না করলে হয়তোভা নীরবে নিভৃতে হারিয়ে যেতাম কচুরিপানার মতো।”
তিনি আরও লেখেন, “প্রশাসনের চিঠি অনুযায়ী আজ ০৪ নভেম্বর রাকসুর চাবি এবং আসবাবপত্র হস্তান্তরের কথা। আলহামদুলিল্লাহ বড় একটা দায়িত্ব থেকে মুক্ত আমি। শেষ সময়টা ভাগ করে নিলাম আমার ১বছরের সঙ্গী রাকসুর কর্মকর্তা,কর্মচারী ভাইদের সাথে। সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন। এখন থেকেই পরবর্তী রাকসুর লড়াই এবং বিগত ০৯ দফা আন্দোলনের লড়াই চলবে রাবি সংস্কার আন্দোলন প্লাটফর্মে।”
সবশেষে আম্মার লেখেন, “আমি এখান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবো আর শিক্ষার্থী ভাই-বোনেরা ইমার্জেন্সি যেকোনো সমস্যায় আমাকে স্মরণ করবেন। শিক্ষার্থীদের ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাপারগুলো ইনশাআল্লাহ প্লাটফর্মে সলভ করার চেষ্টা করবো।”
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে নিজ দফতরে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি যুক্ত করেন। সেটিতে দেখা যায়, কক্ষটির দেওয়ালে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ‘জান দেব, জুলাই দেবো না’ উক্তিসহ তার ছবি ঝুলানো রয়েছে। সেই ছবির দিকে সালাহউদ্দিন আম্মার তাকিয়ে রয়েছেন।
পোস্ট করা এ ছবির ক্যাপশনে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “সামনে জিএস কে হবে জানিনা। সে শহীদ ওসমান হাদিকে কতটুকু স্মরণ করবে বা ধারণ করবে জানিনা। অফিস রুমে ঢুকেই চেয়ারে বসার আগে শহীদ ওসমান হাদির ছবি আর তার প্রতি বিচারহীনতার কথা মনে পড়তো।”
তিনি আরও লেখেন, “আমার আদর্শকে রেখে আসলাম রাকসুর ২০২ নম্বর রুমেই। আমাদের আজাদীর মুয়াজ্জিন শহীদ ওসমান হাদি আজীবন অমর হয়ে থাকুক।”







