সম্প্রতি ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গ্রাফিতি মোছার ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে দেশব্যাপী পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে যারা অপমান করছে, তারা অমানুষ। তারা মধ্যযুগীয় বর্বর। তারা বাংলাদেশ চায় না। তারা বাংলাদেশটাকে পরিবর্তন করতে চায়। তারা বাংলাদেশের নামটাকে পরিবর্তন করতে চায়।’
তিনি আরও বলছেন, ‘আমি ভারতের দেরাদুনে তান্ডওয়ারের ৮ হাজার কিলোমিটার উপরে ভোর পাঁচটায় উঠে সাড়ে ৫টার সময় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে জাতীয় সংগীত (রবীন্দ্রনাথের লেখা) গাইতাম। মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছেন, তারা প্রত্যেকদিন ভোরবেলায় উঠে এই জাতীয় সংগীতটি গাইতেন।’
সম্প্রতি রাজনীতি বিশ্লেষক আতিকুর রহমান পূর্ণিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে পূর্ণিয়া ভিউ নামক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “আমি ভারতের দেরাদুনে তান্ডওয়ারের ৮ হাজার কিলোমিটার উপরে ভোর পাঁচটায় উঠে সাড়ে ৫টার সময় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে গান গাইতাম, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রানে বাজায় বাসি’। তারা কি ভুলে গেছে মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছেন, তারা প্রত্যেকদিন ভোরবেলায় উঠে এই জাতীয় সংগীতটি গাইতেন? সেই জাতীয় সংগীত রচয়ীতার কপালে-মুখে চুন-কালি মেখে দিচ্ছে। আপনারা বাংলাদেশের মানুষ চুপ কেন?”
তিনি আরও বলেন, “আমি সরকারকে বলব, এরেস্ট করাটাই কি সবকিছু? সরকারের পক্ষ থেকে তো বক্তব্য থাকা উচিত। যদি সরকারি সরকার মনে করে, রবীন্দ্রনাথকে রাখবে না বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি-ইতিহাসে, সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু যদি মনে করা হয় যে, একটা লোক রবীন্দ্রনাথকে অপমান করলে এরেস্ট করবেন, তাইলে রবীন্দ্রনাথকে কেন অপমান করা যাবে না, সেটাই তো বলা উচিত। অত জ্ঞানীগুণী মানুষেরা আছেন, কেউ কোনো কথা বললেন না। শিল্পকলাতে ঘটনাটি ঘটলো সংস্কৃতি মন্ত্রী কোনো কথা বললেন না, বলেন না কেন সংস্কৃতি মন্ত্রী? ভয় করেন? আমি তাই আজকে মনে করি।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবমাননাকারীদের ব্যাপারে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে যারা অপমান করছে, তারা অমানুষ। তারা মধ্যযুগীয় বর্বর। তারা বাংলাদেশ চায় না। তারা বাংলাদেশটাকে পরিবর্তন করতে চায়। তারা বাংলাদেশের নামটাকে পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এটা অসম্ভব। যতদিন পৃথিবী আছে, ততদিন বাংলাদেশ থাকবে। আর বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, তার এক নম্বর প্রতিকৃতি হিসেবে থাকবেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।”
প্রসঙ্গত, গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পরে ১০ অক্টোবর সেই গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করে আলোচনায় আসেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আনম আয়াসসহ কয়েকজন।







