পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমগ্র পাকিস্তান। ‘আজাদি ইয়া শাহাদাত’ (মুক্তি অথবা শাহাদাত) স্লোগান তুলে খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে শুরু হয়েছে লাখো সমর্থকের এক অভূতপূর্ব লংমার্চ। আন্দোলনকারীদের বিপুল ও অনমনীয় উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পিটিআই নেতারা একে ‘জনগণের সুনামি’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইমরান খানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে আন্দোলনের একগুচ্ছ ভিডিও ফুটেজ ও ছবি শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রশাসনিক বাধা ও ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীর অভিমুখে এগিয়ে চলছেন। পিটিআইয়ের অফিশিয়াল পেজে পোস্ট করা ভিডিও ও ছবির বর্ণনায় বলা হয়, দমন-পীড়ন ও বাধা উপেক্ষা করে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছেন এবং তাঁদের এই যাত্রা থামানো সম্ভব নয়।
সামাজিক ও রাজনৈতিক চরম অস্থিরতার মধ্যে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পদযাত্রায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার গাড়ি, বাস ও পায়ে হাঁটা মানুষের স্রোত মিশেছে প্রধান মহাসড়কগুলোতে। দলীয় পতাকা, ইমরান খানের ছবি সংবলিত ব্যানার এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবাদী ফেস্টুন হাতে নিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এই কাফেলায় অংশ নিচ্ছেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত একাধিক পিটিআই শীর্ষ নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইমরান খানকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং তার মুক্তির দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে শিপিং কনটেইনারের ব্যারিকেড। এ ছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়তি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক স্থানে প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের কারাবাসকে কেন্দ্র করে পিটিআই সমর্থকদের মনে জমে থাকা ক্ষোভই এখন রাজপথে এই বৃহৎ জনস্রোতের রূপ নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনরত পিটিআই কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা, কোনো বাধা, টিয়ারগ্যাস বা প্রশাসনের রক্তচক্ষু তাদের দমাতে পারবে না। ইমরান খানের চূড়ান্ত মুক্তি এবং দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মাসের পর মাস হলেও এই লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানজুড়ে তৈরি হওয়া এই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।







