বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার দাবি, যাত্রীচাহিদা, বহর সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রয়োজন বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বোয়িং কেনা হয়েছে একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। এখানে কোনো হিডেন (গোপন) এজেন্ডা নেই।’
বাইরের কোনো চাপের মুখে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যাত্রীচাহিদা এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনা হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক সফরের মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি সই হয়েছে। এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল, যার মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নতুন ১১টি উড়োজাহাজের মূল্য, অর্থায়ন ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখানে কোনো লুকায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে।’







