সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, তার ছোট মেয়ের পোষা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল তার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা। ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং এরপর তার ছোট মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
আসিফ নজরুল বলেন, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকার সময় একাকিত্ব কাটাতে তার ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। প্রতিদিন মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার সময় ছাগলটি তার ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে শিশুটিও ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি মেয়ের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারেও ছাগলটির ছবি ছিল বলে জানান তিনি।
ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর তার মেয়ে প্রচণ্ড মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানান আসিফ নজরুল। কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে বমিও করে ফেলে শিশুটি। পরে প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ছাগলটি পরে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল এ তথ্য এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি বলেও জানান আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, মেয়েকে বলা হয়েছে, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যিটা জানলে শিশুটি আরও বেশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে এই আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।
ছাগলটির হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটিকে জবাই করা হয়। ঘটনাটিকে ‘পিশাচসুলভ’ আচরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্রনেতারা রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খেয়ে ফেলেছেন এমন ধারণারও তীব্র প্রতিবাদ জানান আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নাহিদ, আসিফ মাহমুদ, আখতার হোসেন ও সারজিস আলমের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সরকার গঠনের পর নাহিদসহ অন্যরা তাদের প্রথম কর্মসূচিতেও তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আসিফ নজরুলের দাবি, পরবর্তী সময়েও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। বাইরে থেকে এসে বা পুরো ঘটনা না জেনে কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনাটি রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়নি; বরং নেহাত মজা করার ছলেই এটি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ছাগলটির কী পরিণতি হয়েছিল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়। এতদিন পর টকশোতে অংশ নিয়ে সেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলেন আসিফ নজরুল। একই সঙ্গে ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের সম্পর্ক এবং ঘটনাটির পর শিশুটির মানসিক বিপর্যয়ের কথাও জানান তিনি।







