গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব (মধুপুর)।
একটি মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি লিংকনের নিয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সরকার একজন সালাফি বা ‘লা-মাযহাবী’ মতাদর্শের ব্যক্তিকে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি এর সমালোচনা করেন।
মধুপুর পীর সাহেব বলেন, “হানাফি মাযহাবের দেইখা দেইখা একটা লামাযহাবিকে—যে আগে শিবিরের হোতা ছিল, বেদাতিদের হোতা, সে কোনোদিন সহিহ ব্যাখ্যা করে? যে নাকি তবলিগি শানে বেয়াদবি করে, এই লোক কি বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হতে পারে?”
তিনি বলেন, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। মধুপুর পীর সাহেবের ভাষ্য, “আমরা ধরে নিলাম যে, সরকারের এতে দোষ নাই। সরকারকে কেউ বুঝাইছে, উনি হয়তো বুঝেন নাই।”
বক্তব্যে তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, লিংকনের নিয়োগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে তারা কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
মধুপুর পীর সাহেব আরও বলেন, এই দাবি শুধু তার ব্যক্তিগত নয়; দেশের শীর্ষ কওমি ও হানাফি আলেমদের অনেকেই এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে পারেন।
তিনি বলেন, “এইটা কি আমার একা কইতে হবে? এটা আব্দুল কুদ্দুস সাবরেও লাগবে না বইলা দিতে আমাদের? মাওলানা মাহমুদ হাসান সাবকে নিয়ে যাইতে পারুম না? লালবাগেরটা তো আর লাগবে না? পটিয়ার হাজারীও লাগবে না?”
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে লিংকনের নিয়োগ নিয়ে নিজেদের আপত্তি জানিয়ে তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।







