ভারতের বিহারের একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবারে লবণের বদলে ডিটারজেন্ট পাউডার মিশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই খাবার খেয়ে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন ছাত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে। খাবার খাওয়ার পর কয়েকজনের মাথা ঘোরা, পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়।
মঙ্গলবার বিহারের নালন্দা জেলার নুরসরাই থানা এলাকার পারাসি গ্রামের পারসি মিডল স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভুলটি স্কুলের তরফেই হয়েছে।
ভারতের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা খাবারের অপেক্ষায় ছিল। তবে খাবার খাওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। স্কুলে প্রতিদিন মিড-ডে মিলের খাবার অন্য একটি স্কুল থেকে সরবরাহ করা হয়। মঙ্গলবারও একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী সয়াবিন-ভাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার পরিবেশনের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, সয়াবিনের তরকারিতে লবণ কম রয়েছে। পরে তাদের খাবারে স্কুল থেকেই লবণ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।
অভিযোগ উঠেছে, রান্নার সময় এক রাঁধুনি ভুল করে লবণের পরিবর্তে ডিটারজেন্ট পাউডার খাবারে মিশিয়ে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রান্নাঘরে লবণ ও ডিটারজেন্ট পাউডারের পাত্র একই জায়গায় রাখা ছিল। এ কারণে রাঁধুনি ভুল করে ডিটারজেন্ট পাউডারকে লবণ ভেবে খাবারে মিশিয়ে ফেলেন। সম্ভবত স্কুলের কোনো কর্মীই ভুলবশত লবণের বদলে ডিটারজেন্ট শিক্ষার্থীদের খাবারে দিয়ে ফেলেন। সেটি খাওয়ার পরই এই বিপত্তি ঘটে।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী মাথা ঘোরার অভিযোগ করে। কেউ কেউ বমি করতে শুরু করে। আবার কয়েকজন পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। প্রথমে বিদ্যালয়েই অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের বিহার শরিফ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার পর শিক্ষার্থীদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই নিরাপদ। তবে শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে বুধবারও তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার সিং বলেন, নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী একটি বেসরকারি সংস্থা সয়াবিন-ভাতের মিড-ডে মিল সরবরাহ করেছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবার খাওয়ার পর অন্যরা খাবারে লবণ কম থাকার অভিযোগ করে। বিহার শরিফ সদর হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
সিভিল সার্জন চিকিৎসক জয় প্রকাশ সিং হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, সব শিশুই এখন আশঙ্কামুক্ত। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবারই হাসপাতালে যান বিহারের পল্লি উন্নয়নমন্ত্রী শ্রবণ কুমার। তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তথ্যসূত্র; আনন্দ বাজার







