পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আইনজীবীকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনি একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন। শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরস্থ সুবিদখালী এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ফরাজী (৪৪) মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
আইনজীবী মো. সামিউল আলীম বাদী হয়ে শনিবার জাকির হোসেন ফরাজীকে প্রধান আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাকির হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়। ওই মামলায় জাকির একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলাটি পরিচালনার জন্য মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাকির হোসেন ফরাজীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পান মো. সামিউল আলীম। মামলার ধার্য তারিখ ৯ আগস্ট জাকির আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালতের বিচারক।
আইনজীবী সামিউল আলীমের অভিযোগ, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তিনি মুঠোফোনে জাকির হোসেন ফরাজীকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে জাকির ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন সামিউল। কিন্তু আদালত ওই আবেদন খারিজ করে জাকিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সামিউল আলীম বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে জাকিরকে জানান। ওই দিন রাত আটটার দিকে তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় জাকির মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত সামিউল আলীমকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে তিনি বাড়িতে রয়েছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান বলেন, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাকির হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনজীবীকে কোপানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







