আসিফ মাহমুদের বাবার লাইসেন্স বাতিলের স্মৃতি বনাম সালাহউদ্দিনের ছেলের সেতু প্রজেক্ট নিয়ে নীরবতা

Post Image

২০২৫ সালের এপ্রিলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করার ঘটনা জনসমক্ষে এনেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। যদিও সেটি সরাসরি আইনি লঙ্ঘন ছিল না, তবুও ক্ষমতার বলয়ে থেকে ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছিলেন।

ঘটনার পর আসিফ মাহমুদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্টের বিষয়টি বুঝিয়ে তাঁর বাবার লাইসেন্সটি বাতিল করান। ওই লাইসেন্সের অধীনে কোনো প্রকল্প বা আর্থিক লেনদেন না হলেও মূলধারার সমস্ত গণমাধ্যম তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিল এবং উপদেষ্টাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলের ক্ষেত্রে এক বিশাল ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার (৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার) বেশি ব্যয়ে ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর নামের দুটি মেগা সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘মিয়াগাওয়া কেনসেতসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’।

ঢাকা-জাপান যৌথ পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) প্ল্যাটফর্মের বৈঠকে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার পর আলোচনায় এসেছে জাপানি কোম্পানির দেশীয় অংশীদার (লোকাল পার্টনার) ‘স্টালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড’। জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, যিনি প্রভাবশালী মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে।

অভিযোগ উঠেছে, মেগা অবকাঠামো তো দূরের কথা, অতীতে একটি কালভার্ট নির্মাণ কিংবা কোনো ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্যান্ডেল করার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল বাবার রাজনৈতিক প্রভাবের জোরেই সাঈদ ইব্রাহিমের প্রতিষ্ঠান এই বিশাল মেগা প্রজেক্টের লোকাল পার্টনার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক পদ পাওয়ার পর, এবার সেতু সচিবের সাথে তাঁর এই মেগা প্রজেক্টের কাজ নিয়ে সরাসরি বৈঠক করার খবরও সামনে এসেছে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নীতি অনুযায়ী, এই বিশাল প্রকল্প দুটির ভূমি অধিগ্রহণের সমস্ত খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ জনগণের করের টাকার এই প্রকল্পে অভিজ্ঞতাহীন একটি সংস্থাকে লোকাল পার্টনার করার বিষয়টি সরাসরি ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতের স্পষ্ট উদাহরণ হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এক রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে সোচ্চার হয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছিল, সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলের ক্ষেত্রে এই মেগা প্রজেক্টের সম্পৃক্ততা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের প্রশ্ন না করা দ্বিমুখী নীতির জন্ম দিয়েছে বলে সচেতন মহলে সমালোচনা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

প্রজ্ঞাপনের পরেও প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মাননীয়’, জুলকারনাইন লিখলেন— একটু বিব্রতকর না?

ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেফতার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার

লক্ষীপুরের রামগঞ্জে চুরি হওয়া গরু বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার

নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণ করে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ চায় বিএনপি: সাদিক কায়েম

‘২৮ দিন পর পিটিয়ে বের করে দেব’ বলা চবি ছাত্রদল নেতা শোকজ কেন্দ্রীয় সংগঠনের

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার রাবি ছাত্রদলের, শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তচর’ দাবি

নির্বাচন কমিশনকে কমেডি সেন্টার নয়, আস্থার কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় জনগণ: পাটওয়ারী

রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের হেনস্তার প্রতিবাদে ৪ দফা দাবি শিবিরের

সর্বাধিক পঠিত

ইরানের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষতিপূরণের ৩৯ হাজার আবেদন ইসরায়েলে

৩২ আসনে ফলাফল কারচুপির অভিযোগে আইনি লড়াই করবে জামায়াত জোট

বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল

নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ আজই?

নতুন বাংলাদেশে লাগবে শিক্ষা, বড় বড় ব্রিজ-দালান নয় : আমীর খসরু

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ‘আরেকটা জুলাই’ অবধারিত : ড. আযাদ

নারী সেজে টিকটক করতেন ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান

সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার নিন্দা জামায়াতের

দুপুরে এনসিপির সংবাদ সম্মেলন, দলে যোগ দিতে পারেন যারা

জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না