ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৪,৭৬৯ জন তরুণ-তরুণীসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের বন্দী বিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুম্মুস। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বুধবার (১২ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
বিশ্বের তরুণদের নানা সমস্যা তুলে ধরা এবং সমাজ গঠনে তাদের অবদানকে স্মরণ করতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়।
আবু আল-হুম্মুস জানান, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণের সংখ্যা ৪,৭১৩ জন এবং তরুণীর সংখ্যা ৫৬ জন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কারাগারে মারা যাওয়া ৯১ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মধ্যে ৪১ জনই ছিলেন তরুণ। তাদের মধ্যে ৪০ জনের মরদেহ এখনো ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে আটকে রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি অন্যান্য বয়সের আরও বহু ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরাইলি হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের যুবকদের মতো ফিলিস্তিনি তরুণদেরও এই দিনটি উদযাপনের অধিকার রয়েছে। দখলদারিত্বের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া সব ধরনের হুমকি ও বিপদ মুক্ত এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার অধিকার তাদের আছে।’
আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনধারণ, স্বাধীনতা, কাজ এবং অবাধে চলাচলের সুযোগ পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ফিলিস্তিনি তরুণদের জীবনেও এর বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।’
ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘ফিলিস্তিনের তরুণ সমাজই আমাদের আন্দোলনের মূল ভিত্তি। দখলদারিত্ব, অবিচার ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির লড়াইয়ে তারাই প্রকৃত যোদ্ধা। যতদিন না তাদের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, ততদিন তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।’
বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিনি যুবকদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে যুব-বিষয়ক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে ইসরাইলের কারাগারে মোট ৯,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৩৭০ জনেরও বেশি শিশু। এসব কারাবন্দীরা নির্যাতন, অনাহার এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ফলে বহু বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে সশস্ত্র জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো গণহত্যা এবং প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে তারা বাকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডও দখল করে নেয় এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার কিংবা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।







