যশোর-৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসার সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর জেরে তাঁদের বাসভবনে এলাকাবাসীর হামলার পর পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসাটির পাঠদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম সচল আছে।
আজ বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে যশোর-নড়াইল সড়কের নীলগঞ্জ এলাকায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে ছয়জন পুলিশের একটি দল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল। অভিভাবকেরা একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। এমপির মেয়ে অনন্যা গত সোমবার মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এমপির বাসভবনে হামলা-ভাঙচুর চালান।
আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ মাদ্রাসার আজকের কার্যক্রম সম্পর্কে মুফতি কবির হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে যথারীতি মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৯০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জন আজকে উপস্থিত হয়েছে।’ তাঁর দাবি, গতকাল রাত আটটার দিকে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল মাদ্রাসায় এসে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। অভিভাবকদের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনীতি বুঝি না। আমরা চাই, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। আমাদের পক্ষ নিয়ে যে ভাইয়েরা কথা বলেছেন, তাঁদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।’
এ এলাকায় টহলরত যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ফজলুর রহমান বলেন, ‘ছয়জন পুলিশের একটি দল এমপির বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। আমি টহল দায়িত্বে আছি। আমরা এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছি।’
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানা গেছে, যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে প্রফেসর পাড়া নামে একটি পাড়া গড়ে উঠেছে। ওই পাড়ায় ঢোকার জন্য ৮ থেকে ১০ ফুট চওড়া একটি গলিপথ আছে। ওই পাড়ায় জামায়াতের এমপির বাড়ির বিপরীতে ২০২৩ সালে ‘আল-মাদ্রাতুশ শারইয়াহ’ নামে একটি কওমি মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়।
এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় রাস্তায় খেলাধুলা করে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা গলিপথের ওপর বসে থাকেন। এসব নিয়ে বাসিন্দাদের আপত্তি ছিল। এ কারণে বাসিন্দারা মাদ্রাসাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এসব নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধ জড়িয়ে পড়ে এমপির পরিবার।
আজ বুধবার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানান যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।







