এবারের বিশ্বকাপে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ১৬ জুলাই শেষ চারে মুখোমুখি হবে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের। দুদলের শেষ দুই লড়াইয়ে কিছুটা আতঙ্কিত হতে পারেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যদিও এখনো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো শক্তির বিপক্ষে নামতে হয়নি মেসিদের। এবার প্রথমবারের মতো অগ্নিপরীক্ষায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে বিদায় করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বকাপে এই দুই দলের লড়াই মানেই নতুন গল্প, রোমাঞ্চ আর ফুটবলীয় বিতর্ক। সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ঘটনা কিন্তু এ দুই দলের মুখোমুখিতেই প্রত্যক্ষ করেছিল বিশ্ব।
বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায়। এই ম্যাচের জয়ী দল নিশ্চিত করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে ম্যাচটি আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনি খেলবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক ম্যাচ খেললেও, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিরুদ্ধে কখনো মাঠে নামা হয়নি এই খুদে জাদুকরের। অবশেষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহামঞ্চে ঘুচতে যাচ্ছে সেই অপেক্ষা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে থ্রি-লায়ন্সরা। পাঁচবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনটিতে, আর আর্জেন্টিনার জয় দুটি (যার একটি টাইব্রেকারে)। দুদলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৫ সালের এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, যেখানে মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংলিশরা।
তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সমীকরণ আবার ভিন্ন। নকআউটে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই লড়াইয়ে (১৯৮৬ ও ১৯৯৮) শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনাই। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র সেই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়।
ফুটবল যে অতীত পরিসংখ্যান কিংবা ভবিষ্যৎদ্বাণীর ছকে বাঁধা নয়, চলতি বিশ্বকাপেই তার প্রমাণ মিলেছে বারবার। তাই আগামী বৃহস্পতিবারের এই মহারণ কেবল ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম তীব্র ও ঐতিহ্যবাহী এক বৈরিতার নতুন বিস্ফোরণ হতে যাচ্ছে।







