নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করে শাস্তি দাবি করেছেন তার তার স্ত্রী উম্মে জেবিন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তবে বাপ্পি জানান, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সোমবার (১৫ জুন) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পৃথক লিখিত আবেদন জমা দেন উম্মে জেবিন।
অভিযোগপত্রে তিনি লিখেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে গত ২৬ মার্চ আমার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করলে আমার পরিবার তাজহাট থানায় তার নামে প্রতারণার অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ থেকে বাঁচতে মাইদুল ইসলাম আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে সে আমার ওপর শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
‘সে নিয়মিত নেশা করে এবং নেশার টাকার জন্য আমার গায়ে হাত তোলে। বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত সে কোনো কাজ করে না, সম্পূর্ণ আমার দেওয়া টাকায় চলে এবং জোরপূর্বক আমার কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে সে নেশা করে। ছোটখাটো যে কোনো বিষয়ে সে আমায় মারধর করে এবং আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পরিবার থেকে যেন তাকে টাকা নিয়ে দেই। যৌতুকের টাকা না দিলে নাকি তার পরিবার আমাকে মেনে নেবে না। আমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায় যে, কাউকে এ ব্যাপারে বললে আমায় হত্যা করবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে নির্যাতন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সে আমার থেকে টাকাপয়সা নিয়ে আসছে এবং জোরপূর্বক একটি স্মার্টফোনও নিয়েছে যা সে এখন নিজের বলে দাবি করে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেবিন আমার বিবাহিতা স্ত্রী, প্রেমিকা নয়। ওর এবং আমার বিষয়টা একান্তই ব্যক্তিগত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে একটি অভিযোগ এসেছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ করলে হবে না। অফিস চলাকালীন যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জমা দিতে হবে। এরপর আমরা তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এ বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্ত করতে দিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







