দেশের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা মেশিন লার্নিং ভিত্তিক অসঙ্গতি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের প্রস্তুত করা ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়ায় এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এই রূপকল্পের মূল দর্শন হলো- ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। এই দর্শনের আলোকে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ২১ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম উদ্বোধন করে। বর্তমানে দেশব্যাপী এর সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আবেদনকারীদের তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে এনআইডি, এনবিআর, বিআরটিএ ও ব্যাংকগুলোর সেন্ট্রাল ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীর তথ্যের সত্যতা ও সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ভূমি মন্ত্রণালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিবন্ধক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের (সেন্ট্রাল ডেটাবেজ) সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে। গতিশীল সামাজিক নিবন্ধনে (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) সংরক্ষিত তথ্যে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতি প্রতিরোধে সরকার প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যুক্ত করতে পারবে।







