ক্রিকেটার নাসির হোসাইন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলার রায় ঘোষণার দিন আজ বুধবার (১০ জুন)।
দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যখন জনমনে ব্যাপক আগ্রহ, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদী রাকিব হাসানের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে নিজের পেশাগত সততা ও নৈতিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ব্যক্তিগত লাভ বা প্রলোভনের কাছে তিনি কখনো নিজের আদর্শকে বলি দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।
আজ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।
রায়ের আগের রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান লেখেন, “গত পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে আমি একজন আইনজীবী হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে এই মামলাটি পরিচালনা করে আসছি। শুরু থেকে আদালতের সামনে তথ্য, সাক্ষ্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি।”
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ সময়ে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন—‘আমি কোনো আপোষ করেছি কি না, কিংবা মামলাটির নিষ্পত্তিতে এত সময় লাগছে কেন?’ তাদের উদ্দেশে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ব্যক্তিগত লাভ, প্রলোভন বা অন্য কোনো কারণে নিজের নৈতিকতা ও পেশাগত আদর্শের সঙ্গে আপোষ করে মামলা পরিচালনা আমি কখনো করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।”
এই মামলাটিকে কেবল সাধারণ আইনি লড়াই হিসেবে দেখছেন না এই আইনজীবী। এর সামাজিক প্রভাব উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আমার দৃষ্টিতে, এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি মামলা নয়; এটি আমাদের সমাজের কিছু গভীর সংকট ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। এমন একটি বাস্তবতা, যেখানে বিশ্বাসের সম্পর্ক ভেঙে যায়, পারিবারিক বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে পড়ে। এ কারণেই মামলাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ, উদ্বেগ ও আবেগ এত গভীর।”
এদিকে মামলার রায় নিয়ে আসামিপক্ষের বিভিন্ন প্রচারণার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে ইশরাত হাসান আরও বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি যে, আসামিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নিজেদের খালাস পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত এবং আগাম নিশ্চিত খালাস পাবেন মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে আমি কোনো পক্ষের বক্তব্য নয়, আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। আমার বিশ্বাস, আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।”
সর্বোপরি সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আশাবাদ ব্যক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী লেখেন, “আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যদি আদালত উপস্থাপিত প্রমাণের আলোকে দোষ প্রমাণিত মনে করেন এবং উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করেন, তবে তা শুধু এই মামলার জন্যই নয়, বরং সমাজে জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন প্রথম স্বামী রাকিব হাসান। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে।







