কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যর্থ হলে রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার দুইদল কিশোরের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্টেশন এলাকার কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্টেশনের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংঘর্ষের কারণে স্টেশন মাস্টারসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হন পুলিশ ও রেলওয়ের নিরাপত্তা সদস্যরা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এসআই সাইফুল, এসআই জহুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, সুলতান মাহমুদ, মিন্টু মিয়া, মাহমুদুল হাসান, দাউদ নবী এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মো. মুছা। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সংঘর্ষের কারণে একাধিক ট্রেন ভৈরবের আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এর মধ্যে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, নরসিংদী কমিউটার এবং একটি মালবাহী ট্রেন ছিল। ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রেললাইনের দুই পাশের দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা স্টেশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, হামলা ও ভাঙচুরে স্টেশনের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কের মধ্যে অবরুদ্ধ ছিলেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, প্রথমে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।







