টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ের আনন্দে ভাসছিল পিএসজি সমর্থকরা। কিন্তু সেই উৎসব রূপ নিল চরম বিশৃঙ্খলায়। শনিবার (৩০ মে) ফাইনাল ম্যাচে আর্সেনালকে হারিয়ে পিএসজি শিরোপা নিশ্চিত করার পরপরই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন স্থানে সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় ৪০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।
ফাইনাল জয়ের পর প্যারিসের ঐতিহাসিক শঁজেলিজে সড়কে সমর্থকদের ঢল নামে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দ পরিণত হয় তাণ্ডবে। বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার ছোড়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয়। বেশ কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দোকানপাটের কাচ ভেঙে ফেলা হয়। এর আগেই প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় দর্শকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ভোর পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৪১৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই আটকের সংখ্যা ২৮০ জন। সংঘর্ষে ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ এই সহিংসতাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ফুটবল জয় ঘিরে এই দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে সরগরম দেশটির রাজনীতিও। ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার কারণ হতে পারে। এমনকি বিজয়ের রাতেও সাধারণ মানুষকে সহিংসতার ভয়ে ঘরে থাকতে হয়।’
গত বছর পিএসজির শিরোপা জয়ের রাতে সহিংসতায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু, যার মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর ছিল, সেই স্মৃতি আজও পিছু ছাড়ছে না ফরাসিদের। এমন অতীত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই রোববারের নির্ধারিত বিজয় মিছিলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইফেল টাওয়ারের পাশের শঁ দ্য মার্স এলাকায় খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আমন্ত্রণে পিএসজি দলের সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।







