নরেন্দ্র মোদির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

Post Image


মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যায় ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে।


তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে হাস্যরসের ভাষায় তুলে ধরা সিজেপি এখন নরেন্দ্র মোদির সরকার ও বিজেপির জন্য নতুন চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের ব্যঙ্গাত্মক অনুকরণ।


গতকাল বৃহস্পতিবার সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যায়। সংখ্যার দিক থেকে বিজেপির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টকে ছাড়িয়ে যায়।


বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৮.৭ মিলিয়ন। রাজনৈতিক দল না হলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে দেশের বড় দলগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ‘পার্টি’। তবে দুই লাখের বেশি অনুসারী থাকা সত্ত্বেও সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে ভারতে দেখা যাচ্ছে না।

সিজেপির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দেখতে গেলে অনেক ব্যবহারকারী একটি বার্তা দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘একটি আইনি সমস্যার কারণে’ অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে।


এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, শশী থারুররাও ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ হয়ে মুখ খুলেছেন। এক্স-এ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করে লেখেন, ‘দেশের সরকার যুবসমাজকে এতটাই ভয় পায় যে, একটি অনলাইন আন্দোলনকেও সহ্য করতে পারছে না।’


তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর কাজ আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, মহুয়া মৈত্র নিজেও ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) একজন ফলোয়ার। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের আরেক নেতা শশী পাঁজা।


তিনি বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে, সিজেপির জনপ্রিয়তা তাই প্রমাণ করে।’ তার মতে, এই অনলাইন আন্দোলনের এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।


সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রের নির্দেশেই সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবির দাবি, এই অ্যাকাউন্টটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, তাদের পক্ষ থেকে কোনো উসকানিমূলক বা বেআইনি পোস্ট করা হয়নি, বরং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়েই পোস্ট করা হচ্ছিল।


তার প্রশ্ন, যদি কোনো ভুল বা অবৈধ কার্যকলাপ না থাকে, তাহলে কেন এই অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম বন্ধ করা হলো। তবে এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।


সিজেপির দ্রুত জনপ্রিয়তা এবং অল্প সময়ে বিপুল অনুসারী অর্জন অনেককেই বিস্মিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, এই অনলাইন আন্দোলন ভারতের বাস্তব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। যদিও সামাজিক মাধ্যমে সিজেপি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তবুও বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের মতো বড় দলগুলো এখনও দেশজুড়ে লাখো সক্রিয় সদস্য নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অবস্থান করছে। তবুও সিজেপির জনপ্রিয়তা ও অনলাইন প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

এবার পাকিস্তানে ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ দলের আত্মপ্রকাশ

নরেন্দ্র মোদির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলছে: ইরানি গণমাধ্যম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে নতুন নিয়ম চালু করল ইরান

১৫ জেলায় দুপুরের মধ্যে একাধিকবার কালবৈশাখীর সতর্কবার্তা, ঘরে থাকার পরামর্শ

হজের কারণে ইরানে হামলা স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প

প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ে ২৯ জনের মৃত্যু, দুর্ভোগে ২০ কোটি মানুষ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মোদির শোক

যে কোনো সময় ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা রয়েছে রাশিয়ার

গল্প এখানেই শেষ নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক বার্তা ইরানের

সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘের নিন্দা

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহর’ আঘাতে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কা, নিহত ৫৬

কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত ২ শতাধিক

বিজয়ের দলের ১০৭ এমপির একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের কাছে ৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানে জোড়া বোমা বিস্ফোরণ-গুলিতে নিহত অন্তত ১৭