পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার আড়ালের আলোচনা এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আবারও তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা আইএসএনএ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, সংকট নিরসনে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনও কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মতভেদ রয়েছে।
আইএসএনএ জানায়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এ সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বার্তা ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নকভি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আইএসএনএ আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত আলোচনা ও বৈঠকের জন্য মহসিন নকভি শুক্রবার (২২ মে) তেহরানে অবস্থান করবেন।
এর আগে আনাদোলু এজেন্সির আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে আলাদা আলোচনা চায় তেহরান। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চায়, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে পারমাণবিক ইস্যু ‘আলোচনা করে নিষ্পত্তি’ করা হোক।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনও সমঝোতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজের ওপর কৌশলগত সমুদ্রপথে অবরোধ বহাল রাখেন।







