রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশর মাধ্যমে শেষ করেন তারা। মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে তারা দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে রামিসা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করার মতো বর্বরোচিত ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে সংঘটিত তনু হত্যা ও হাদি হত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকায় দেশে অপরাধীরা উৎসাহ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকার অভাবে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।
এ বিষয়ে জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নেত্রী সুখীমন খাতুন বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সমাজে চলমান ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের খবর দেখতে হয়। বিষয়টি এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করছি, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিচারহীনতার কারণেই এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষণিকের প্রতিবাদ বা মানববন্ধন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
বিচার বিভাগের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আর কত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর উদ্যোগ নেবেন? নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর হতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।







