ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর শান্তি আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরজুড়ে কড়া নজরদারির কারণে কার্যত ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী কঠোর লকডাউনের অধীনে রয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিশেষ বাহিনীর কমান্ডসহ প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে যান চলাচল নিশ্চিত করতে স্কুল ও অফিসগুলো একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একই সঙ্গে সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আলজাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বেশ কিছু প্রতিনিধি আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু কারা এসেছেন এবং তাদের সঙ্গে কী বিষয়ে কথা বলছেন, সে ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে আছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানি একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার জন্য ‘সবকিছু ঠিকঠাক পথেই এগোচ্ছে’। উভয় দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই মধ্য ইসলামাবাদের পাঁচতারা সেরেনা হোটেলে অবস্থান করছেন। সেখানেই আলোচনা চলাকালীন পুরো সময় থাকবেন তারা। শুক্রবার সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল না। তবে পাকিস্তান তাদের সঙ্গে সৌজন্য বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
তড়িঘড়ি করে সরকারি ছুটি ঘোষণার কারণে ইসলামাবাদের কেন্দ্রস্থলকে সম্পূর্ণ লকডাউনের আওতায় আনা হয়। এছাড়া মার্কিন ও ইরানের প্রতিনিধিদলের অবস্থান করা হোটেলটির চারপাশে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে (২ মাইল) ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়।







