মহান আল্লাহ তাআলা এই মহাবিশ্বকে অসংখ্য রহস্য ও নিদর্শনে পরিপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যতই চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করে, ততই আল্লাহর সৃষ্টির গভীরতা ও মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে বিশেষ করে কেন্দ্রস্থলে (কোর) প্রচুর পরিমাণ লোহা রয়েছে। এই লোহা পৃথিবীর গঠন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর এই লৌহকেন্দ্র গ্রহটিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে এবং এর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে পবিত্র কোরআনেও লোহার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের ৫৭তম সূরা হলো সূরা আল-হাদীদ। “হাদীদ” শব্দের অর্থ লোহা। এই সূরার ২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
অর্থ:
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে স্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও ন্যায়ের মানদণ্ড নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আর আমি লোহা নাযিল করেছি, এতে রয়েছে প্রবল শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু উপকার। এর মাধ্যমে আল্লাহ জানতে চান কে তাঁকে ও তাঁর রাসূলদের না দেখে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, মহাশক্তিধর।”
— (সূরা আল-হাদীদ: ২৫)
এই আয়াতে লোহার শক্তি ও মানবজাতির জন্য এর বহুমুখী উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধুনিক সভ্যতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই লোহা ও ইস্পাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—নির্মাণ, শিল্প, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অপরিহার্য।
পৃথিবীর কেন্দ্রে লোহার উপস্থিতি এবং কোরআনের একটি সূরার নাম “হাদীদ”—এই বিষয়টি অনেকের কাছে মহান আল্লাহর সৃষ্টির এক গভীর রহস্য ও নিদর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানুষ তাঁর অসীম ক্ষমতা ও মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।







