মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
ইসলাম মানুষের জীবনকে সময়ভিত্তিক ইবাদতের শিক্ষা দেয়। প্রতিটি ঋতু, প্রতিটি বয়স সবকিছুর মাঝেই ইবাদতের আলাদা সৌন্দর্য ও মর্যাদা রয়েছে। তবে যৌবনকাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়েই মানুষ সবচেয়ে শক্তিশালী, উদ্যমী ও সম্ভাবনাময়। যৌবনের ইবাদত তাই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও ফলপ্রসূ।
শীতের ওজু ও গরমের রোজা, এ দুই ইবাদত শুধু শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে না; এগুলো আত্মাকে শুদ্ধ, চরিত্রকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর নৈকট্যের পথে মানুষকে এগিয়ে নেয়।
শীতের ওজু : কষ্টের মাঝেই পবিত্রতা:
শীতকালে ঠান্ডা পানিতে ওজু করা সহজ নয়। তবু এ কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে আছে ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা। ওজু শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়; এটি আত্মশুদ্ধির মাধ্যম, পাপমোচনের পথ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন’। (সূরা বাকারা : ২২২)।
নবি (সা.) পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। শীতের ওজু মানুষকে সংযমী করে, আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায় এবং অলসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জোগায়। বিশেষ করে যৌবনে এ অভ্যাস গড়ে উঠলে তা আজীবন চরিত্রের অংশ হয়ে যায়। শারীরিক দিক থেকেও শীতের ওজু রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় রাখে এবং শরীরকে সতেজ করে।
গরমের রোজা : ধৈর্যের পরিশীলন:
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ, দীর্ঘসময় পানি বর্জন, সব মিলিয়ে গরমের রোজা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। কিন্তু এ কষ্টই রোজাকে মহিমান্বিত করে তোলে। রোজা শুধু উপবাস নয়; এটি প্রবৃত্তিকে সংযত করা, মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাধনা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো’। (সূরা বাকারা : ১৮৩)।
নবি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব’। (সহিহ মুসলিম : ১১৫১)। গরমের রোজা যুবককে মানসিকভাবে দৃঢ়, ধৈর্যশীল এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। এ সংযম ভবিষ্যৎ জীবনে নৈতিক স্থিতি রক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলে।
যৌবনের ইবাদত : অমূল্য পুঁজি:
যৌবন হলো দায়িত্ব নেওয়ার বয়স, আত্মগঠনের সময়। এ সময়ের ইবাদত আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। নবি (সা.) যুবক বয়সে আল্লাহর পথে চলার ফজিলত বর্ণনা করেছেন, শীতের ওজু ও গরমের রোজা যৌবনের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এগুলো চরিত্র গঠনের নীরব অথচ শক্তিশালী প্রশিক্ষণ। যে যুবক কষ্টের মাঝেও ইবাদতে অবিচল থাকে, তার জীবন হয় সংযত, স্থির ও আলোকিত।
শীতের ওজু ও গরমের রোজা শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয় এগুলো আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও তাকওয়ার পাঠশালা। যৌবনে এসব ইবাদতের স্বাদ যে গ্রহণ করতে পারে, তার জীবন আল্লাহর রহমতে পরিপূর্ণ হয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে শীতের ওজু ও গরমের রোজা যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন আমিন।







