বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
গত বছর ১৩ জানুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে অভিযোগ দেন শহিদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দাখিলের পর তা ৩০ জুন আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছর ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দেন। গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। এরপর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। বর্তমানে জুলাই-আগস্টের সেই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।







