ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির সঙ্গে যুগ্পৎ আন্দোলন শরিক ও জোট নেতাদেরও নিয়ে সবার অন্তর্ভূক্তিমূলক ‘জাতীয় সরকার’ আদলে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। অবশ্য নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকবে না প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধিত্ব। তবে দলের সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকরাও। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে দলটি।
দলটির ২১২ জন সংসদ সদস্যের বিশাল বহরে সরাসরি মাঠের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মাত্র দুজন। তাদের একজন হলেন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন। ক্রীড়াজীবন থেকে রাজনীতিতে আসা মিলন আগেও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এবারও একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আলোচনায় তিনি। অন্যজন সাবেক ফুটবলার ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে তিনিও অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আলোচনায়।
এদিকে ক্রীড়ামন্ত্রী পদ নিয়ে হেভিওয়েট দুই নেতা ইশরাক হোসেন ও আলী আসগর লবিকে ঘিরেও জোরালো আলোচনা চলছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন লবি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরাজিত করেন তিনি।
এর আগে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ক্রীড়াঙ্গনের বিশেষ করে ক্রিকেট প্রশাসনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন লবি। একই সময়ে টানা পাঁচ বছর বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি, ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুই বছর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও সক্রিয় ছিলেন; ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাবের পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।
এর বাইরে মাঠের খেলায় সরাসরি সম্পৃক্ত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নিতাই। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সে সময়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২ মে ১৯৯০ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তার। পরে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়ে বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এ ছাড়া ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে, ২০০১ সালের অষ্টম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা-২ আসন থেকে পরাজত হয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।
উল্লেখ্য, অতীত অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে দেখা যায়, বিএনপি দুবার সরকার গঠন করলেও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সচরাচর প্রতিমন্ত্রীর অধীনেই ছিল। ১৯৯১ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন মির্জা আব্বাস (২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ১৯ মে ১৯৯১ পর্যন্ত)। এরপর দায়িত্ব নেন সাদেক হোসেন খোকা এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে পুরো সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন ফজলুর রহমান পটল। তবে প্রত্যেকেই ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে।







