আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মন্ত্রীর অভিপ্রায়ে ২০৩টি আসনে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এ অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে।
বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এমন আসনের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য এ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তবে বিরোধী জোট ছেড়ে যাওয়া খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের আসন সিলেট-৫-এর ইউনিয়নগুলো বরাদ্দ পেয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দিতেই এ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তার অংশ হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে সরাসরি ও শর্তহীন থোক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর ২৫ শতাংশ সব ইউনিয়নকে সমহারে দেওয়া হয়। বাকি বরাদ্দ দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের কাজের দক্ষতার ভিত্তিতে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে এক হাজার ৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এর মধ্যে বিশেষ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে ২৭৯ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০৩টি আসনের তিন হাজার ১৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়। যদিও গত ১২ আগস্ট সারাদেশের চার হাজার ৫৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১৮০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
আগের বরাদ্দে এমপিদের অভিপ্রায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিও অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিন থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
১৩ অক্টোবর মঞ্জুর করা বরাদ্দের আদেশে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।’ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এতে এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গড়ে ২৫ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। বরাদ্দ মঞ্জুরির চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে টাকা খরচ করতে না পারলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।







