মুন্সীগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় মুন্সীগঞ্জ সদরের কাটাখালী এলাকার নিজের বাসা থেকে ভুক্তভোগী কাজীকে তুলে নিয়ে অপহরণ ও চাঁদা আদায়ের এ ঘটনা ঘটে। এতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার আবেদন (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম রাজিব হোসেন অপু। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কাজীর নাম মোঃ হাবিবুর রহমান (৫২)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর দুপুর ২ টায় নিজের বাসা থেকে যুবদল নেতা রাজিব হোসেন অপু (৩৪) ও স্বপন (৩৫) কাজী মোঃ হাবিবুর রহমানকে (৫২) বিয়ে পড়ানোর কথা বলে মটোরসাইকেল যোগে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোরপূর্বক জেলার মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সেখানে নিয়ে একটি রুমে আটক রেখে চাঁদা দাবি করা হয়। এসময় চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন যুবদল কর্মী সোহেল। বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শণ করে জোরপূর্বক ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানি হলে পরিবারের সহায়তায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী কাজী।
অন্যদিকে যুবদল নেতা চাঁদাবাজি, হুমখি ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভুক্তভোগী কাজীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান। এতে ন্যায়বিচারের আশায় আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি বলে জানান তিনি।
স্ট্যাটাসে নাহিদ হাসান বলেন, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপু দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং আমার বাবাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়েছে। প্রথমে বাবাকে আমাদের কাজী অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখান থেকে বাবাকে জোরপূর্বক মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হয়। এ সময় বাবার মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। এরপর তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারি বাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাবা দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে তাদের হাতে দেন। টাকা দেওয়ার পরপরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাবাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়।এই ঘটনা কোথাও জানালে তাকে মেরে ফেলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাজিব হোসেন অপু থানায় উপস্থিত হন। সেখানে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ সহযোগিতায় টাকা ফেরত দেয় যুবদল নেতা। কিন্তু এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমাকে বলা হয়, আমরা যেন বিষয়টি মেনে নিই, তারা টাকা দিয়ে দিছে এবং ভবিষ্যতে তাদের লোকজন আমার বাবার কাজী অফিসের দিকে তাকাবে না। একইসঙ্গে মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে, তা নিয়েও আমাকে ভয় দেখানো হয়।
সবশেষে নাহিদ বলেন, আমি অভিযু্ক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আমার পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আমি জানি না শেষ পর্যন্ত বিচার পাব কি না। জানি না, অভিযুক্তরা আবার বের হয়ে এসে আমার পরিবারকে নতুন করে কোনো বিপদের মধ্যে ফেলবে কি না? তাও জানি না। তবুও আমি পিছিয়ে যেতে চাই না। আমার পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু আমাদের পরিবারের বিষয় নয়। মুন্সিগঞ্জে আরও কত সাধারণ, অসহায় মানুষ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। আমি আশা করি, মুন্সিগঞ্জের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির যুবদলের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেন। আমি কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু চাই আমার বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।







