কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় চাইনিজ কুড়াল হাতে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার এলাকায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরকে হাতে একটি চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে সৈয়দ তাওকিরের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন, মামলা বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের কাছে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ তাওকির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংঘর্ষের সময় চাইনিজ কুড়াল হাতে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সংঘর্ষ থামানোর জন্য অন্য একজনের হাত থেকে কুড়ালটি নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। জেলা নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, বিষয়টি সত্য, আমরা সবাই অবগত। তবে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।
অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা জানান, সৈয়দ তাওকিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও সংঘর্ষের ভিডিওর বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, বিষয়টি এখনও জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নেব।
ওই জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সৈয়দ তাওকিরের বাবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে শোকজ দিয়েছে জেলা বিএনপি।







