মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বাস সড়কে চললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কোনো বাধা নেই।
বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে তা ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা। আইনের ২৮ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
পরে আইনজীবী রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই রাস্তায় চলবে। স্লিপার বাস চালানোর কোনো অনুমতি নেই। হাইকোর্টও স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেয়নি। এর ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ও রুট পারমিট ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ থাকছে না। এ ধরনের বাসকে সড়ক পরিবহন আইন ও নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য মেনেই চলাচল করতে হবে।
এদিন রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তথ্য অধিকার আইনে বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট মামলা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান। ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন দাখিল করে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।







