জ্বালানি সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমদানি-নির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির কারণেই আজকের সংকট বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
আজ শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা টাউনহলে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক ও কোটবাড়ি এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির ধারণাপত্র উপস্থাপনবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি (ইরান-ফিলিস্তিন) হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের যে চ্যালেঞ্জ এটাও সংকটের অন্যতম কারণ। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের গ্যাস উত্তোলন, ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির মজুদ তৈরি করা এবং আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস আছে সেগুলো কিভাবে ম্যানুয়ালি আনা যায়, এসব উৎপাদনে মধ্যম মেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আমরা এর সুফল পাব।
জুনায়েদ সাকি আরো বলেন, ‘একমাত্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণে আমাদের ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এতে একদিকে আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের পর বাংলাদেশে এসে ইউটার্ন করেছেন, এটা আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। একটানা অবৈধভাবে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র করার চেষ্টা করেছে তাদের শাসনের বৈধতার জন্য। কিন্তু কী উন্নয়ন তারা করেছে? এমনই উন্নয়ন করেছে কুমিল্লাবাসী মহাসড়কের এপার থেকে ওইপারে যেতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ গণ-অভ্যুত্থানের পরে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং এখনো যারা শরীরে ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের যে ঋণ সেটি হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে এবং সমস্ত উন্নয়নকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা।’
সেমিনারে মূল ধারনপত্র পাঠ করেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।







