রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসায় ভয়াবহ আগুন লাগে আজ সকালে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধার করা হয় ১৩ জনকে। ভবন থেকে বেঁচে ফেরা শিবলু বলছিলেন ভয়াবহ ঘটনার কথা।
আগুন লাগা সাততলা ভবনটির চতুর্থতলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন শিবলু। ঘটনার সময় ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ ওপরতলা থেকে বৃষ্টির মতো গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভাঙে তার। পরিবার নিয়ে নিরাপদে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আটকা পড়েন তিনি। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সপরিবারে নিরাপদে বের হয়ে আসেন ভবন থেকে।
শিবলু বলেন, যখন আগুন লাগে তখন আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ওপর থেকে গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আগুন যে লেগেছে এটা বুঝতে পারিনি। শব্দ পাচ্ছি ওপরতলায় গ্লাসের মতো কী যেন ভেঙে পড়ছে। তখনই আমার ঘুম ভাঙে। সবাইকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এত ধোঁয়া, ধোঁয়া দেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। একটা নির্দিষ্ট সময় পর ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা নিরাপদে বের হই। আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই সুস্থ আছি।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন- কুমিল্লা সদরের নানুয়াদিঘির পাড়ের কাজী ফজলে রাব্বি, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও তাদের দুই বছরের ছেলে ফাইয়াজ রিশান। নিহত অন্য তিনজন হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপারশী এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারিছ উদ্দিন ও মো. রাহাব এবং শহিদুলের মেয়ে রোদেলা।
এদিকে, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে পরবর্তীতে জানা যাবে প্রকৃত কারণ।







