রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সারাদিন প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।
রাত পর্যন্তও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিস্থল ছাড়েননি। দীর্ঘ সময় অনশনে থাকায় ইতোমধ্যে অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয় এবং রক্তচাপসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। অনশনস্থলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শুয়ে থাকতে এবং অন্যদের তাদের পাশে অবস্থান করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসেনি।
আন্দোলনকারীরা জানান, এর আগে গত ২৮ জুলাই একই দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিকেল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, তদন্ত চলাকালীন আবদুল গফুরকে সব প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে। পাশাপাশি তাঁর নিয়োগের বৈধতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন স্বাধীনভাবে যাচাই করার দাবি জানান তারা।
এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশ আনার বিষয়ে অডিও-ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধে আন্দোলন করছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের দাবিতে আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
তারা আরও বলেন, রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজেও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। অসুস্থতার ঘটনা ঘটলেও তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগ, তদন্তকালীন সব প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার পুনঃযাচাই, ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন তদন্ত, প্রকল্প ও পরিবেশগত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন— “ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়, পদ-পদবির চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বড়।” “দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে—স্বচ্ছতা চাই, জবাবদিহি চাই, ন্যায়বিচার চাই।”







