জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শেল্টারে সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে সাংবাদিক সমিতির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মাহামুদুর রহমান নাজিদকে আহ্বায়ক এবং মাহির মিলনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিক সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান নাজিদ তৎকালীন সন্ত্রাসী ও বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একইভাবে সদস্যসচিব মাহির মিলনও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের শেল্টারে এ ধরনের কমিটি ঘোষণা সাংবাদিক সমিতির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছেন অনেকেই।
চার সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির অন্য দুইজন হলেন, মিজান মাসুদ এবং ওমর ফারুক জিলন। ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা বাইরে নেই ওমর ফারুক জিলনও। বিশ্ববিদ্যদলয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির ঘনিষ্ট ছিলেন তিনি। এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে, হান্নান মাসুদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার তথ্যও রয়েছে।
এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমিতি দখল চেষ্টা ও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জনের অধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠক করে পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
সাংবাদিক সমিতির একাধিক সদস্য এ ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং সাংবাদিক সমিতির গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তা না হলে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।







