দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে। আর ২০ শতাংশের কিছুটা বেশি শিক্ষার্থী তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ডাকসু, এমনটাই জানিয়েছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ন্যারেটিভ’ পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।
ডাকসুর পারফরম্যান্স নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা: NarratiV স্টুডেন্ট পারসেপশন সার্ভেটি (পর্ব-১) গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এতে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চেয়েছে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে।
ন্যারেটিভ বলছে, এই কয়েকদিনের মধ্যে তারা মোট ৯৪১টি স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৬.৬% আবাসিক এবং ২৩.৪% অনাবাসিক। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৪.৩% পুরুষ এবং ৩৫.৭% নারী শিক্ষার্থী এই জরিপে অংশগ্রহণ করেছেন।
‘‘আমাদের স্যাম্পলিং ছিলো স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম এবং আমরা সরাসরি হলগুলোতে (টোটাল ১৫টি হল কভার করেছি; প্রায় ৫০টি করে ডাটা প্রত্যেক হল থেকে) গিয়ে ডেটা সংগ্রহ করেছি, যাতে সিলেকশনে কোনোরূপ বায়াস না থাকে। অনাবাসিকদের ক্ষেত্রে আমরা ৭টি বাসের রুটকে টার্গেট করে আমাদের ডেটা সংগ্রহ করেছি।’’
ন্যারেটিভ আরও বলছে, শিক্ষার্থীদের থেকে সর্বপ্রথম ডাকসুর কার্যক্রমের রেটিং সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর ডাকসুর নির্বাচিত প্যানেল তাদের ইশতেহার পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়েছে কিনা তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের আগে ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা নির্ণয় করা হয়েছে। এরপর ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এর কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টির মাত্রা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে। একইভাবে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হল সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সবশেষে, ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদ বাদে অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্যদের মধ্যে কে বেশি সক্রিয় এবং কে বেশি নিষ্ক্রিয় তা শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেন্ডার, হল, সেশন এবং আবাসিক-অনাবাসিক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করার জন্য প্রতিটি শ্রেণি (যেমন: পুরুষ, নারী, প্রতিটি হল, প্রতিটি সেশন এবং আবাসিক- অনাবাসিক) থেকে দেওয়া ভোটকে ১০০% ধরা হয়েছে। এরপর, প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে কত শতাংশ, তা হিসাব করা হয়েছে, বলছে ন্যারেটিভ।







