ড. ইউনূস তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে: হোসেন জিল্লুর

Post Image

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন। তার মতে, এর একটি হলো, তরুণদের ক্ষমতালোভী করে তোলা।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে। ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এর আয়োজক ছিল যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স। সভায় সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান এবং অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তখন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ছিল, সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

তার প্রায় দুই দশক পরে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দেড় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে বিদায় নেয় এই সরকার। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, এই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো—সরকারে আমলাদের যুক্ত করা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের সংস্কারকে নিজেরাই ছুড়ে ফেলে দেওয়া।

হোসেন জিল্লুর বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।

হোসেন জিল্লুর রহমানের ভাষ্য, ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়নি। এর ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস তাতে বাধা হয়ে উঠেছিল বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি কোন মুহূর্তে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা শুরু থেকেই রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার বদলে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা মুখে বললেও তাতে আন্তরিকতা ছিল না বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, সে কারণেই সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সর্বশেষ খবর

ড. ইউনূস তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে: হোসেন জিল্লুর

বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে ১৮ কোটি মানুষ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

প্রধানমন্ত্রী সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত গোর বৈঠক

রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নগর ব্যবস্থাপনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি

বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, ঢাকা সফরের আগ্রহ

‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন আজ

কল ড্রপ কমানোর আহ্বান টেলি যোগাযোগ মন্ত্রীর

সর্বাধিক পঠিত

ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস না হওয়ার খবর আবারও নাকচ করলেন ট্রাম্প

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন কমিশন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ, চাপ বাড়ছে মহাসড়কে

জামায়াত আমিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শবে বরাত উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নানা আয়োজন

ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্টকে যা বললেন সৌদি যুবরাজ

পুলিশ সংস্কার যেভাবে করতে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি : আসিফ নজরুল

এবার পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ফরহাদ হোসেনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায়

শতাধিক গুম–খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু