মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য নিজেদের পছন্দের একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সুযোগ তৈরি হলো ।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি বিরল নজির স্থাপন করেন। এক মেয়াদে সময়ের ব্যবধানে তিনজন ভিন্ন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়েন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে থাকে। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচিও পালন করে। তবে সংসদ বিলুপ্তি, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সময়জুড়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়লেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।







