জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধির সংখ্যা কম হওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রশ্ন করে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিদল।
তারা নির্বাচনে নারী প্রতিনিধির অংশগ্রহণ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাতজন নারী সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।
ওই বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, যে নির্বাচন হয়ে গেল, সেটা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তারা সেটা জানতে চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ জন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আরও প্রার্থী ছিলেন। এখন প্রার্থীকে ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে আসতে হবে।
আমরা আরও জানিয়েছি, ৩৫০ জন সংসদ-সদস্যের মধ্যে ৭ জন আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জনসহ মোট ৫৭ জন নারী সংসদ-সদস্য আছেন। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এই মাত্রাটা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করি।
ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষের পার্থক্য কমানোর বিষয়টিও ইউএন উইমেনকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষের গ্যাপ (পার্থক্য) প্রায় ৩ মিলিয়ন ছিল। এটা কমিয়ে ১ দশমিক ৮ মিলিয়নে আনা হয়েছে।
এটা আরও কমাতে চেষ্টা করছি। এবারের নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হয়নি, কারও ভোট বাক্স ছিনতাই হয়নি-এগুলোও জানানো হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব।
ইউএন উইমেন কোনো পরামর্শ দিয়েছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে জেন্ডার নিয়ে কাজ করছেন। সেটা অব্যাহত রাখবেন বলে তারা জানিয়েছেন।’
বৈঠকে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংস্থাটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ন্যারাদজাই গুম্বনজভান্দা, রিজিওনাল ডিরেক্টর ক্রিস্টিন আরব, রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং, ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা ও ইউনিট ম্যানেজার তপাটি সাহা। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।







