মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এখন ‘সম্ভব নয়’-এমনটাই জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’-এর কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান। খবর বিবিসির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানের বন্দরগুলোকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখার শামিল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধ উসকে দেয়ার’ অভিযোগ তোলেন।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী। তবে তিনি বলেন, ‘চুক্তি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি-এসবই প্রকৃত আলোচনায় প্রধান বাধা।’
এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করবে। তবে এখনো সেই বৈঠক শুরু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও দেশেই অবস্থান করছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিবভ্যাট জানান, এই সম্প্রসারণের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধে সন্তুষ্ট।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সব সিদ্ধান্তই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের স্বার্থ অনুযায়ী উপযুক্ত সময়েই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবেন।’
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা সেখানে দুটি কার্গো জাহাজ ‘তল্লাশির জন্য জব্দ’ করেছে। এর আগে একই এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জাহাজগুলো ‘অনুমতি ছাড়া চলাচল’ করছিল এবং বারবার নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজগুলো গোপনে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারসাজি করেছিল।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।







