আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার নাকরলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ‘ভুল’ তথ্য দিয়েছেন। মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্প ‘এক ঘণ্টায় সাতটি দাবি করেছেন, যার সবকটিই মিথ্যা।’ তিনি নির্দিষ্ট করে দাবিগুলোর কথা বলেননি। তবে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, এই মিথ্যা দিয়ে তারা যুদ্ধে জয়ী হয়নি, আর আলোচনাতেও তারা কোথাও পৌঁছাতে পারবে না।
বাঘের গালিবাফ বলেন, প্রণালি খোলা থাকবে কি বন্ধ থাকবে এবং এর নিয়মাবলি মাঠের বাস্তবতায় নির্ধারিত হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়। প্রণালি দিয়ে যাতায়াত ‘নির্ধারিত পথ’ এবং ‘ইরানের অনুমতি’ অনুযায়ী হবে।
এর আগে একই দিনে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ একটি ‘চুক্তি স্বাক্ষরিত’ হলেই তুলে নেওয়া হবে। অ্যারিজোনায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক উপকরণের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত ও বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা এলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ‘যদি, কিন্তু’ রেখে কথা বলছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাতে সোশ্যাল ট্রুথে তিনি লিখেছেন, চুক্তির শর্ত পুরোপুরি শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ক্ষেত্রে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণভাবে খোলা এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত’। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে।
এর আগে, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ফ্রোজেন ফান্ড বা আটকে রাখা অর্থও ইরান পাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কিছু শর্ত সাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।







