রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল) কিনতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। গ্রাহকরা নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন গাড়ির তেল কিনতে। একই অবস্থা দেখা গেছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। এদিকে বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অনেকেই ভাবছেন এখনই তেলের সংকট হবে। আসলে এখনই তেলের সংকট হবে না। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসে সংকট হতে পারে। এখন ক্রেতারা যেভাবে কিনছেন, এটি প্যানিক বায়িং।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই শঙ্কার কিছু নেই। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে গাড়ির জ্বালানি কিনতে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন খবর শুনে তারা তেল নিতে এসেছেন।
বিজয় সরণির ট্রাস্ট পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা সাজিম মাহমুদ এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি শুনেছি ইরান যুদ্ধের কারণে সামনে তেল পাওয়া যাবে না। তাই ফুল ট্যাংকি তেল নিতে এসেছি।’
সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি সাধারণত প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫শ টাকার তেল নিই। কিন্তু পেট্রোল পাম্পে এসে দেখি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বড় লম্বা লাইন। পরে দু-একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলার পর তারা তেলের সংকট হওয়ার কথা জানান। এ অবস্থায় আমিও ১৫শ টাকার তেল কিনি।’
একাধিক পাম্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাম্পগুলোয় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু ক্রেতারা বেশি বেশি তেল কেনার কারণে পাম্পের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, ডিজেল আমদানি করা হলেও অকটেন ও পেট্রোল বাংলাদেশেই উৎপাদন হয়। এটি আমদানি করতে হয় না। ফলে পেট্রোল বা অকটেনের কোনো সংকট হবে না।
এদিকে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার পর আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পাম্পের বাইরে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় দেখা যায়। ফিলিং স্টেশনটির ক্যাশিয়ার ইমরান আহমেদ বলেন, ‘এই পাম্পে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল আসে এবং বিক্রি করা হয়। মজুত থাকে ২০ হাজার লিটারের কাছাকাছি। কিন্তু ডিপো থেকে গাড়ি আসছে না। মজুত কমে গেছে। পাম্পের রিজার্ভ ট্যাংকে ন্যূনতম ৪০০ লিটার রাখা লাগে। এখন প্রায় এর কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই বিক্রি বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।’
তালুকদার পাম্পের মতো রাজধানীর আরও কয়েকটি পাম্প দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব পাম্পের কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ করে তেল কেনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।







