রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত যোগান। এখন পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বাড়তি দামের কোনো শঙ্কাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। খুচরা বাজারেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে ভূরাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মসলার বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। নির্বাচন ও পরবর্তী ঈদকে ঘিরে বাজার কিছুটা অস্থির হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এর প্রভাব দামের সূচকে পড়বে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালের শুরু থেকেই পুরান ঢাকার চকবাজার–মৌলভীবাজার কিংবা বেগমবাজার এলাকায় জমে উঠ জমজমাট হাঁকডাক। অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মাঝেও চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু হয় ব্যবসায়িক দিন। বাণিজ্যের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে বায়ান্ন বাজার তিপান্ন গলির এই শহরে।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর রমজান। ফলে পাইকারি বাজারগুলো এখনই জমে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ সময়ের যোগানের পাশাপাশি বাড়ছে আমদানিও। দেশি পণ্যের সঙ্গে বিদেশ থেকে আমদানি করা খাদ্যপণ্যে সয়লাব পাইকারি বাজার। নানা জাতের দেশি ও আমদানি করা মুগ, মসুর, ডাবলি, ছোলা ও কাবলি ছোলার সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বছর ব্যবধানে ছোলার আমদানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মুগ ৩০০ শতাংশ, মসুর ৮৭ শতাংশ, খেজুর ২৩১ শতাংশ এবং চিনি ১১ শতাংশ।
ভারতের সঙ্গে আমদানি বন্ধ থাকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে মসলার বাজারে। দীর্ঘ পথ ঘুরে দেশে আসছে মসলা। বর্তমানে ৫ কেজি ভারতীয় এলাচির দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। ভারতীয় জিরা মানভেদে প্রতি কেজি ৫৭০ টাকা, ইরানি ও আফগানি জিরা ৭০০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কার লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ২৫০ টাকায়।
খুচরা বাজারে রমজানের পণ্য ও মসলা নিয়ে এখনো বড় কোনো অভিযোগ নেই। আগামী ১৫ দিনে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হবে কিনা—এ নিয়ে আপাতত খুব একটা চিন্তিত নন ব্যবসায়ীরা।
প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের বাজারে তাই রমজান সামনে রেখে আপাতত কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইছে।







