নাইকো মামলায় বাংলাদেশের জয়, পাবে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ

Post Image


সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালত। ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ওই অর্থ বাংলাদেশকে প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড) ট্রাইব্যুনাল।


বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান ইকসিডের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সম্ভবত ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশকে দিতে বলা হয়েছে।


পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নষ্টের দায় বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতিসাধনের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার মিলে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার (৫১৬ কোটি টাকা, ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে) ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ১১৮ মিলিয়ন এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি বাবদ ৮৯৬ মিলিয়ন ডলারের একটি হিসাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর সঙ্গে এখন পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হিসাব যোগের আবেদন ছিল।


নাইকো কর্তৃক অনুসন্ধান কূপ খনন কালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। বিষয়টি বাংলাদেশে আদালত ধরে ইকসিডে গড়ালে ২০২০ সালে নাইকোকে দায়ী করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত মাসে ওই আদেশ দিয়েছে ইকসিড।


ওই গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণের কারণে মজুদ গ্যাস পুড়ে যায়।


আশপাশের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে অস্বীকৃতি জানায় নাইকো। এ কারণে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের এবং নাইকোর ফেনী ফিল্ডের গ্যাসের বিল প্রদান বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা।

হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের আদেশ দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যায় নাইকো, সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় হয়।


আটকে রাখা গ্যাস বিল এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার জন্য ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে নাইকো। ২০১৪ সালে এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধ করতে বলে।


ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফিল্ডটির অবশিষ্ট মজুদ গ্যাস উত্তোলন বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি। ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটিতে পরের বছর কূপ খনন করে ১০৯০ মিটার থেকে ১৯৭৫ মিটারের মধ্যে ৯টি গ্যাস স্তর আবিষ্কার করা হয়। গ্যাস উত্তোলন করে ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করার পর পানি আসতে শুরু করায় কূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্যাসক্ষেত্রটি কানাডিয়ান কম্পানির নাইকোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। নাইকো কর্তৃক অনুসন্ধান কূপ খননকালে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে।

এই বিভাগের আরও খবর

অর্থনীতি

News Image

বিএনপির সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫
News Image

সাবেক সিইসি আউয়াল ৩ দিনের রিমান্ডে

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

আজ বাজারে আসছে জুলাই গ্রাফিতির নতুন ১০ টাকার নোট

পরের সরকারের জন্য অর্থনীতিতে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ রয়েছে: উপদেষ্টা

ফের কমেছে স্বর্ণের দাম, ভরি কত টাকা?

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আরও ৫৮ হাজার টন গম

রমজানে বাজারে পর্যাপ্ত যোগান থাকায় দাম বাড়ার শঙ্কা নেই, তবে অস্থিতিশীল মসলার বাজার

নাইকো মামলায় বাংলাদেশের জয়, পাবে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ

সর্বাধিক পঠিত

দুই দশক পর ঢাকায় বসছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক

তিন মাসে বিদেশি ঋণ প্রাপ্তি ১১৫ কোটি ডলার, পরিশোধ ১২৮ কোটি

আবারও বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম, আজ থেকে কার্যকর

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের নতুন ডিভিশন ডিরেক্টর হিসেবে ঢাকায় যোগ দিলেন জঁ পেসমে

শেয়ারবাজারে পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত

নীলফামারীতে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ কর্মসূচি

হাসিনা সরকারের নজরদারির সরঞ্জাম ক্রয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

আমরা ইতোমধ্যে ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান

নাইকো মামলায় বাংলাদেশের জয়, পাবে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ