পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির নিয়ম ভেঙেছেন কি না, তা আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, নাকি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. নাবিলা ইদ্রিস।
সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইজিপির ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দুর্বল করে ব্যক্তির ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই অপরাধের বিচার ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়গুলো ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আইজিপি নিয়ম ভেঙেছেন কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধিবিধান থাকার কথা। হয় তিনি নিয়ম ভেঙেছেন, নয়তো ভাঙেননি। এটা কি নির্ধারিত হবে প্রধানমন্ত্রীর মর্জির ওপর?’
তিনি বলেন,“একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় কেউ নিয়মের অধীনে থাকবেন, নাকি ব্যক্তির ইচ্ছার অধীনে থাকবেন, সেটিই মূল প্রশ্ন। ব্যক্তির ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার অপেক্ষা করতে হয়।”
এ প্রসঙ্গে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় একটি হাসপাতাল ভাঙার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন নাবিলা ইদ্রিস।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ হলে তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সংসদ সদস্যপদ হারানোকে ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং সেই ব্যবস্থা আইনসংগত হবে কি না, এসব বিষয় ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, বক্তব্যটির একটি রূপক অর্থও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সম্ভাবনা খোলা রাখা হচ্ছে। নাগরিকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিরোধ তৈরি হলে আইজিপিকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইজিপির বক্তব্যকে যদি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুজব ও অপতথ্যসংক্রান্ত সংজ্ঞার আওতায় পড়ে কি না। সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের সংজ্ঞার আওতায় পড়লে এর জন্য ১০ বছরের সাজা হতে পারে।
নাবিলা ইদ্রিসের মতে, পুলিশের মতো একটি বাহিনী কেন সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় থেকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। তাঁর ভাষ্য, আইজিপিকে পরিবর্তন করে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলেও পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন নাও হতে পারে। কারণ, বর্তমান ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে যে সরকার নির্দেশ দিলে তা পালন করতে হবে।







