বারবার ফোন ব্যবহার করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের প্রশাসনিক বৈঠকে ধমক খাওয়া বাগেরহাটের বিতর্কিত সিভিল সার্জন ডা. এ. এস. মো. মাহবুবুল আলম এবার বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ে আলোচনায় এসেছেন। হাইপ্রোফাইল অনুষ্ঠানে বারবার বিতর্কিত কাণ্ড ঘটানোয় এই কর্মকর্তার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম শনিবার (১০ অক্টোবর) সিভিল সার্জনের ঘুম নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এমন অসুস্থ ব্যক্তিকে চায় না বাগেরহাটবাসী।
এসব আচরণের বাইরে মো. মাহবুবুল আলমকে নিয়ে বাগেরহাটে বিতর্ক বহু পুরোনো। সম্প্রতি কালবেলা, ডিবিসি এবং যমুনা টিভির অনুসন্ধানে বাগেরহাটে মাহমুদুল হাসান নামের যে ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে, সেই চিকিৎসককে অবাধে রোগী দেখার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় কথিত ফেসবুক সাংবাদিক কামরুজ্জামান শিমুল নামের এক বিএনপি নেতার প্রশ্রয়ে ওই ভুয়া চিকিৎসক দিনের পর দিন বাগেরহাটে রোগী দেখছিলেন।
যমুনা টেলিভিশনে এই সংবাদ প্রচারের অনেক আগে কালবেলা, ডিবিসিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে শিমুল গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের নিয়ে নিজের ফেসবুকে অপপ্রচার চালাতে থাকেন। চাঁদাবাজ আখ্যা দেন।
এরপর যমুনা টেলিভিশন দীর্ঘ তদন্ত শেষে মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে চক্রটি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। যমুনা টেলিভিশনের আলোচিত ওই প্রতিবেদনে যেভাবে প্রতিবেদককে চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়া হয়, ঠিক একইভাবে কালবেলা এবং ডিবিসি নিউজের সাংবাদিকদের আক্রমণ করা হয়। কালবেলা এবং ডিবিসির সংবাদের পরও ভুয়া চিকিৎসককে নিয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কোনো ব্যবস্থা নেননি। সেই সুযোগে বিএনপি নেতা শিমুলের প্রশ্রয়ে থাকা ওই ভুয়া চিকিৎসক আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এসব নেতাকে মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি চেম্বার করতে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। যমুনার প্রতিবেদনে আরও গোমর ফাঁস হলে ভুয়া চিকিৎসক বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে শিমুল এখনো এলাকায় আছেন। আর দায়িত্বে আছেন সেই সিভিল সার্জনও।
ফোনকাণ্ডের পর এবারের ঘুমকাণ্ড দেখে সিভিল সার্জনকে নিয়ে মনিরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ‘ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সমাজসেবাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও জেলা-উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ক্যান্সার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিকিৎসকেরা প্রেজেন্টেশন দেন। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা একজন বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। দেখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সংসদে বসে ঘুমানোর কথা মনে পড়ল।’
তিনি আরও লেখেন, ‘জেলা-উপজেলার সব হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত এই ব্যক্তির বেহাল দশা দেখে অনেকেই বলছিলেন, নিজেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর কারণে জেলার সব হাসপাতালের বেহাল দশা হয়েছে। আমি অনতিবিলম্বে বাগেরহাটের দায়িত্বে নিয়োজিত সিভিল সার্জনকে অপসারণ করে সুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি এবং উদ্যমী একজনকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’







