ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আটক থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দলটির ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে তাঁকে আটক করা হয়।
আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে দিল্লি পুলিশের সূত্র জানায়, আটক থাকা অবস্থায় বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, নাকি দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে বাড়ি ফিরবেন—সে সিদ্ধান্ত অভিজিৎ দীপকেই নিতে হবে।
পরিবারের সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, দীপকের দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপকে (৮৫) শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাকে হিঙ্গোলির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার সকাল ১০টায় তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীপকের এক চাচাতো ভাই জানান, দিল্লিতে আটক থাকায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তার মা-বাবাকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে এবং তারা গ্রামের বাড়ির পথে রয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট হিঙ্গোলি জেলায় ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি শুরুর সময় দীপকে দাদির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর আরও একবার তার সঙ্গে দেখা হয়। তবে গত ২০ থেকে ২৫ দিনে তিনি আর দাদির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দীপকে, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং দলটির নেতা আশুতোষ রানকাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দলটির প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভে যোগ দিতে তারা দিল্লিতে গিয়েছিলেন।
জননিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ ওই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
সিজেপি জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের প্রচার-আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে দলটি।







