নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের

Post Image


কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় এসেছেন। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা।

পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে কার্নির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স এবং সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন। তবে সোমবার সন্ধ্যায় কার্নির সম্ভাবনা কমে ৫ শতাংশে নেমে যায়। তখন সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স তার ওপরে ছিল। ট্রাম্পের সম্ভাবনা ছিল ২ শতাংশ।

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসানে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং এ কারণে পুরস্কারটি তার প্রাপ্য। চলতি মাসের শুরুতে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, কিন্তু নোবেল পুরস্কার পাননি।

ট্রাম্প ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাচাদোর কাছ থেকে তিনি নোবেল পদক পেয়েছেন। তবে মাচাদো নিজে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেননি; এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেও কানাডার স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন অবস্থানের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের পর তিনি উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পান।

কার্নি বলেন, কানাডা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে এবং আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডার মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে। মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন, সংহতি, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধকে তিনি গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কও সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন এবং কার্নিকে ‘কানাডার ভবিষ্যৎ গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।

অন্যদিকে ইরান নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান কঠোর হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ধ্বংস করার হুমকি দেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে কার্নির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ট্রাম্পের পুরস্কার প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে তুলনা তৈরি করেছে। তবে পূর্বাভাস কোনোভাবেই নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নয়। আগামী ৯ অক্টোবর পুরস্কার ঘোষণার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট


এই বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

ভারতের দাবি করা মৃত সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ, আটক ৫ শতাধিক

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের

ইরানি জাতির সাহস ও দৃঢ়তায় বিস্মিত বিশ্ববাসী: পুতিন

এবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি

ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা

ভারতে নিজ বাহিনীর সদস্যের গুলিতে কমান্ডারসহ চারজন নিহত

বাংলাদেশের বিমান আটকে দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান

সর্বাধিক পঠিত

সৌদিতে অবস্থানরত ২২ হাজার রোহিঙ্গা পেলো বাংলাদেশি পাসপোর্ট

শান্তিচুক্তির ‌‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ করছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেন নেতানিয়াহু

আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

পশ্চিমবঙ্গেও পদ্ম ফুটেছে : মোদি

ভারতের সেনাপ্রধান হচ্ছেন ধীরাজ শেঠ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় লাখো মানুষ

পশ্চিমবঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে ওয়াইসির দলের জোট

আমি নিজেকে শান্তির দূত মনে করি: ট্রাম্প