আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ

Post Image

ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পরই অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত সিট বরাদ্দের তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক সিটের প্রত্যাশায় থাকা অনেক অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।

মারুফ মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, এই রকম একটা অন্যায় করার আগে ডিপার্টমেন্টের প্রধানের বুক কেঁপে উঠলো না? আমার আর্থিক অবস্থা জানার পর ও কেন সিট দিলো না?

মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শাহিন আলম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ডিপার্টমেন্টে ভাইভা দিয়েছি এবং সেখানে উত্তীর্ণও হয়েছি। পরবর্তীতে আবাসিক হলে সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে আমার নামও ছিল। কিন্তু হঠাৎ আজ দেখলাম, সেই তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ আমার জায়গায় যাকে সিট দেয়া হয়েছে, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ভাইভাতেও অংশ নেয়নি। এমন আরেকজনকে সিট দেয়া হয়েছে, যে ক্লাসে অনিয়মিত হওয়ায় ইতোমধ্যে ডিসকলেজিয়েট। রাজনৈতিক পরিচয় থাকাতেই কেবল সিট পেয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, সিট না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, নিজেকে সেভাবে তৈরি কর যাতে করে রাতের আঁধারে সিট বরাদ্দের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে গোপনে বসে নিজেদের মতো করে হলে সিট নিতে পারো অথবা ভবিষ্যতে কারো জন্য দিতে পারো।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, নতুন করে সিট পাওয়া ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদল করেন না- এমন একজন শিক্ষার্থী কি সিট পেয়েছেন? কলেজ প্রশাসনের এই তামাশা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে রাখবে। যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতাও হারিয়েছে। মেরুদণ্ডহীন এই প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করাটা সবচেয়ে বড় ভুল।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের দাসত্বের অধ্যায় শেষ হতে না হতেই, এই নির্লজ্জ ও অথর্ব প্রশাসন নতুন করে আরেকটি ছাত্রসংগঠনকে মনিব হিসেবে মেনে নিয়েছে। শুধু ক্ষমতার মুখ বদলেছে, কিন্তু প্রশাসনের চরিত্র বদলায়নি।

যাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়া হলো, যেসব অসহায় ও হকদার শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হলো- তাদের আর্তনাদ একদিন ফিরেও আসতে পারে। মনে রাখবেন, অন্যের সন্তানের ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে কেউ চিরদিন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। আপনাদেরও সন্তান আছে; একদিন নিজের সন্তানের বঞ্চনা দেখে যেন হা-হুতাশ করতে না হয়। হাজার হাজার অসহায়-মেধাবী ছাত্রের হক যারা নষ্ট করলো, আজ হোক, কাল হোক তাদের অথবা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেই।

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ঢাকা কলেজ প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে- শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুরুর দিকে বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে যাদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এখানে মেধার বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি।

প্রশাসনের কাছে আমার স্পষ্ট প্রশ্ন- কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায়, কিংবা কোন মন্ত্রীর ফোন কল ও রেফারেন্সে আপনারা তালিকা থেকে মেধাবীদের নাম কাটতে বাধ্য হলেন? এই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের জবাবদিহিতা কিন্তু আপনাদের রেডি রাখতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আমাদের ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এই সীমিত সিটের বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। ফলে সিট দিতে আমাদের সমস্যা হয়েছে।

আর নাম কেটে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এরকম যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সেই সিটের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এদিকে হলে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী।

এই বিভাগের আরও খবর

ক্যাম্পাস

News Image

ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ

ডাকসুর চমক: চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪০০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান

‘১১ মাসে যা করেছি, ঢাবির ১০৫ বছরেও তা কেউ পারেনি’

শেখ মুজিবকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, পাবিপ্রবির দুই শিক্ষককে ছাত্রদলের হুশিয়ারি

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে ঢাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হেনস্তা

নোবিপ্রবিতে সিট দ্বন্দ্বে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে মারামারি

আমার ছবি শেয়ার করে অভদ্র পোস্ট দেওয়া একমাত্র ছাত্রদল দ্বারাই সম্ভব: মোনামি

সর্বাধিক পঠিত

রাজু ভাস্কর্যে শিবিরের ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিলবোর্ড, গভীর রাতে সরাল ছাত্র ইউনিয়ন

ভোলায় র‍্যাবের হাতে আটক জ্বীনের বাদশা

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড়, বহিষ্কার সেই ছাত্রদল নেত্রী

ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্ব মিত্র চাকমার

বাকৃবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লিখন, সম্পাদক জুলফিকার

তিতুমীরে হল কমিটি ছাত্রদলের, পদ পাওয়া নেত্রীরাও বলছেন—‘আমরা রাজনীতি চাই না’

একসঙ্গে গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত

ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে ভিপি সাদিক কায়েমের বিয়ে

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে পাবনায় ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

আমি অবশ্যই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবো: রাবি উপাচার্য