জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র ঝুঁকি, বাইরে অপেক্ষায় তদন্তকারী দল। শিপইয়ার্ডে মূল স্পটে ঢুকতে পারছেন না তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ফলে গ্যাসের উৎস কোথায় ছিল, জাহাজ কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল, এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।
জাহাজের অভ্যন্তরের বিষাক্ত গ্যাস নিরাপদে নিষ্কাশন না হওয়া পর্যন্ত সরেজমিন তদন্তও সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত যেখানে, সেই জায়গাটিই এখনো তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শাখা আট সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করেছে। এতে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আদেশে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসীর আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহির উদ্দিন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আরাফাত হোসেন এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল দিয়ে কাজ শুরু হলেও জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা বিবেচনায় পরে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম করা হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে জাহাজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে মূল স্পটে প্রবেশ সম্ভব না হলেও পারিপার্শ্বিক তথ্য, নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
তবে সবার নজর এখন আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিমের দিকে। সরজমিন প্রবেশ, এই দুই ধাপ পেরোলেই খুলতে পারে ফেরদৌস শিপইয়ার্ড ট্র্যাজেডির মূল রহস্যের দরজা।