দেশের ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তে যখন পিচঢালা রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল, তখন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে শুধু সমর্থনই নয়, তাকে আজীবন ক্ষমতায় দেখার খায়েশ প্রকাশ করেছিলেন। আন্দোলনকারীদের জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের দমন-নিপীড়নের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে আরো কঠোর হওয়ার জন্য হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান তারা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দমাতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দেশ। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ জারি এবং ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন সমিতির নেতারা।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সমর্থন আদায়ের উদ্যোগ নেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে ২২ জুলাই ওই বৈঠকটি হয়। সরকারের সমর্থক ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী নেতারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেন।
উদ্ভূত সংকট সমাধানে যৌক্তিক কোনো পরামর্শ না দিয়ে বরং হাসিনাকে আরো কঠোর হস্তে আন্দোলন দমানোর জন্য জোর দাবি জানান আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা।
ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থনের পর আন্দোলনকারীদের সরকারের দমন-নিপীড়নে নতুন মাত্রা যোগ হয়। আগের তুলনায় তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নির্বিচারে গণহত্যায় মেতে ওঠে পুলিশ, র্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নজিরবিহীন। দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগ এবং কয়েক হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শাসক হাসিনার পতন ঘটে। ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ১৪ দিনের মাথায় ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা।
কিন্তু তাকে সমর্থন দেওয়া ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। তারা নানাভাবে সক্রিয়ও। ভোল পাল্টে তারা এখন সরকারের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন কিংবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কয়েকজন কারাগারে থাকলেও বেশির ভাগই রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করে হাসিনাকে সমর্থন জানানো এসব ব্যবসায়ীর মালিকানায় থাকা গণমাধ্যমগুলো নানাভাবে জুলাই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এদিকে হাসিনাকে সমর্থন জানানো ২৪ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ মামলায় আরো ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসিনাকে সমর্থন জানিয়ে সবচেয়ে বেশি জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আকবর সোবহান। সবশেষ বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেছিলেন, হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আমাদের আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তার প্রতি আমাদের এ আস্থা, বিশ্বাস এবং মৃত্যুর পরেও তার প্রতি আমাদের আস্থা বিশ্বাস থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী, জঙ্গি বাহিনীকে ধ্বংস করতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; তা না হলে আমাদের কেউই আর ব্যবসায়ী হিসেবে থাকতে পারব না।
বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে সেদিন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে বসে একজন নেতা যিনি সাজাপ্রাপ্ত, তিনি ভিডিওতে সারা দেশে মিটিং করবেন, এটা তো হতে পারে না। এটা তো স্বাধীনতা নয়। আর এ স্বাধীনতা যদি বাংলাদেশে থাকে, জেলখানাতেও রাজনীতি করার আপনারা অধিকার দিয়ে দেন যে, প্রতিটি জেলখানার লোকেরাও রাজনীতি করতে পারবে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে সরকারের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ১৪ বছর আগে চিন্তা করেন। আমি কোথায় ছিলাম, আজকে আমি কোথায় এসেছি। আপনারা এখানে সবাই বড় ব্যবসায়ী। আপনারা সবাই চিন্তা করেন, ১৪ বছর আগে আপনারা কোথায় ছিলেন, আজকে কোথায় আসছেন। আমাদের সাত দিন, ১৫ দিন কিংবা এক মাস ব্যবসা বন্ধ থাকলে ইনশআল্লাহ কিচ্ছু হবে না। উনি (হাসিনা) আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, ইনশাআল্লাহ কোনো শক্তি আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, আমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে শুধু বলি, আমরা কেউ যেন ধৈর্য না হারাই। আমাদের যারা শত্রু (আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে) তারা মনে করবে যে, আমরা যা করেছি এই দেশটাকে তো স্টপ করে দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো হাত স্টপ করতে পারবে না।
হাসিনা সরকারের উদ্দেশে আকবর সোবহান বলেন, আমার শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে, সবাইকে বিচারের আওতায় আনুন। আগুন সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে প্রতিদিন এসব হবে। মনে করবে, এ দেশে তো কোনো বিচার হবে না। ২০০০ এর আগেও বিএনপি-জামায়াত অনেক কিছু করেছে। জানি না, কতদূর বিচার হয়েছে। যদি বিচার হতো তাহলে আজকে সাহস পেত না।
এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মা সেতু, বিটিভি ও অন্যান্য উন্নয়ন দেখে খুশি হতে পারেনি। তারা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চায়।
তিনি আরো বলেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া তিন কোটি ব্যবসায়ী আপনাকে এই অঙ্গীকারবদ্ধ করতে চাই যে, আপনার সঙ্গে আছি, অতীতেও ছিলাম এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবে। আপনার নেতৃত্বে এ দেশ চলবে আর কোনো শক্তি আমরা এখানে দেখতে চাই না। বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলা, সেই সোনার বাংলা আপনার নেতৃত্ব হবে এর কোনো বিকল্প আমরা চাই না।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বেঁচে থাকলে আমরাও বেঁচে থাকব। দেশের পুরো ব্যবসায়ী সমাজ আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন আপনার পাশে থাকবে।
এফবিসিসিআই সভাপতির আহ্বানে সমাবেশে উপস্থিত সব ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সংগঠনের নেতারা হাত তুলে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বলেন, অশুভ চক্র, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্র সারা দেশের সন্ত্রাসীদের ঢাকাতে এনে যে ধ্বংসলীলা চালালো এবং চালানো হচ্ছে এদের উদ্দেশ্য এ দেশের সম্পদ ধ্বংস করা, বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যা করা।
হাসিনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, জীবন দিয়ে হলেও আপনার পাশে থাকব। কারণ আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা; দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন। আপনি জীবিত থাকলে আল্লাহর রহমত এই দেশ এগিয়ে যাবে।
ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমরা আপনাকে প্রতিজ্ঞা করে গেলাম, আপনার সঙ্গে আমরা ছিলাম, আমরা আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। আপনার উন্নয়নের সব প্রচেষ্টা, সব উদ্যোগ আমরা বাস্তবায়িত করব এবং এই জাতিকে আমরা নিরাপদ করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আন্দোলনকে একটি সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটিকে দেশের জন্য লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আজকে রাস্তাঘাট সবকিছু বন্ধ। এরকম একটা পরিস্থিতিতে আপনি (হাসিনা) ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মাস্টার হিসেবে অতি সত্বর আমাদের এসব ঝঞ্ঝাট মুক্ত করে আমাদের ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন বলে বিশ্বাস করি। আপনি ছাড়া বাংলাদেশের আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি নেই, এই অর্থনীতিকে আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
বিকেএমইএর তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আজকে এই যে তাণ্ডব আমরা গত কয়েকদিন দেখেছি। আমরা আশা করব, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ যারা আছেন দায়িত্বে, তারা এই বিষয়গুলো নিশ্চয়ই উদঘাটন করবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আমরা সরকারের পাশে সব সময় ছিলাম, এখনো আছি ইনশাআল্লাহ। ব্যবসায়ী সমাজ সব সময় আপনার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আবারও আমরা আপনার পাশেই থাকব।
লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, আমরা যখন দেখি যে, মেট্রো রেল নষ্ট হচ্ছে, এটি আমাদের বুকে লাগে। এটি হতে পারে না। যারা এটা করেছে, তাদের আপনারা আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আপনারা ভালো তদন্ত করেন।
প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ বোধহয় বিগত দিনে হয়নি। আমি মনে করি, এটার জন্য বিচার হতে হবে, ইনভেস্টিগেশন হতে হবে।
এদিকে ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’ স্লোগান দেওয়া এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদের একটি বক্তব্য বেশ আলোচনায় থাকলেও সেটি গণভবনের ওই বৈঠকের বক্তব্য নয়। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই এফবিসিসিআই আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা পরবর্তী নির্বাচনে হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান—এমন বক্তব্য দেন। তখন ক্ষমতায় থাকা হাসিনার পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কে আজাদ বলেন, ‘আপনি অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছেন। আর স্থিতিশীলতাই সমৃদ্ধি আনে। এ জন্যই বলি, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার।’ এ সময় তিনি বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের জনপ্রিয় গানের ভাষায় বলেন, ‘প্রথমত আমি তোমাকে চাই, শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই। ভীষণ অসম্ভবেও তোমাকে চাই।’
২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ কে আজাদ। কিন্তু ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়ে বেশ তৎপর হয়ে ওঠেন এ কে আজাদ। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় সেই সরকারের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন ব্যবসায়ী এ নেতা।
২৪ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
এদিকে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সমর্থন দেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দাখিল করা অভিযোগে ২৪ ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত হিসেবে আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে ২৪ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ করার পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে তদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করব। তদন্ত কাজ কবে শেষ হতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি এখন বলা যাচ্ছে না। তবে এটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
যে ২৪ ব্যবসায়ীর নামে অভিযোগ
সালমান ফজলুর রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান), মাহবুব আলম (এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি), এসএম মান্নান কচি (বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি), মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান), নজরুল ইসলাম মজুমদার (নাসা গ্রুপ ও এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান), মো. হেলাল উদ্দিন (দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি), মো. হাতেম (বিকেএমইএর তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি), নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান), আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান), মো. সানি (প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী), এ কে আজাদ (হা মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক), আনোয়ার পারভেজ (বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী), আব্দুল মোতালেব (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), বজলুর রহমান (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), প্রীতি চাকমা (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), হাবিবুল্লাহ ডন (বারভিডার সভাপতি), জহিরুল ইসলাম জহির (বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব), বিএম ইউসুফ আলী (বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট), মোস্তফা কামাল (মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান), মোহাম্মদ আলী খোকন (ম্যাকসন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান), আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ (নর্দান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান), ওবায়দুল করিম (ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান) এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল গ্রুপের চেয়ারম্যান) নামে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ







