ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এসব বক্তব্য চুক্তি লঙ্ঘনের স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং ওয়াশিংটনের যুদ্ধমুখী নীতির ধারাবাহিকতা।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হওয়া এই ফোনালাপে আরাঘচি ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ বলে উল্লেখ করেন।
ফোনালাপে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য যেকোনো বেপরোয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে আত্মরক্ষার জন্য ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তবে ফোনালাপে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির কী বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইআরএনএ।
গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাত বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করা।
তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওই সমঝোতা স্মারক এখন “শেষ”। তার এ ঘোষণার পরই কার্যত সমঝোতাটি ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।







